Monday, November 5, 2012

বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্মকথা



বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্মকথা
আগেই বলে নিচ্ছি এই পোস্টটি বিভিন্ন ব্লগ থেকে কপি পেস্ট করা জাস্ট পাব্লিসিটির জন্য এটা করলাম।
এবার আসল কাজ শুরু করলাম...............
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস এর চাকুরি পাওয়া একজন চাকুরি প্রার্থীর কাছে খুবই আরাধ্য বটে। কিভাবে আপনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন সফল ক্যাডার অফিসার হবেন তা আপনার স্পষ্ট ধারণা নেই। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন এই পরীক্ষা নিয়ে থাকে। শ্রেষ্ঠ মেধাগুলোকে তুলে আনার জন্য এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। এখানে ম্যারাথন দৌড়ের মতো আস্তে আস্তে আপনাকে এগুতে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিন।

আপনি নবম দশম শ্রেণীর ক্লাশের শিক্ষার্থীদের গণিত, বিজ্ঞান বইগুলো পড়ুন। ভালো হয় উক্ত ক্লাশের কোনো শিক্ষার্থীকে পড়ালে। কিছু টাকাও পেলেন আবার বিসিএস প্রস্তুতিটাও হলো। আপনার ছোট ভাই-বোন থাকলে তাদেরও পড়াতে পারেন । প্রাথমিক প্রস্তুতির জন্য বাজারে সাম্প্রতিক তথ্যাবলি নিয়ে সংকলন পাওয়া যায়। যাচাই বাছাই করে একটি ঢাউস সাইজের বই কিনে নিতে পারেন। প্রতিটি অধ্যায়ের ভূমিকাটুকু ভালো করে পড়ে ফেলবেন । প্রয়োজনে রঙিন কলম দিয়ে দাগিয়ে রাখবেন।

প্রতিদিন নিয়মিত পত্রিকা পড়বেন। আপনার মাথায় থাকবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কার, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য। চমকপ্রদ এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো নোটস আকারে খাতায় লিখে রাখতে পারেন। পেপার কাটিং অ্যান্ড ক্লিপিংস করে রাখতে পারেন। তবে পেপার কাটিং রাখার আগে আর্টিকেলগুলো ভালোভাবে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কলম দিয়ে দাগিয়ে রাখবেন। পরীক্ষার আগে পুনরায় চোখ বুলানোর সময় আপনার সেই তথ্যগুলো কাজে লাগবে।

বাংলা ইংরেজির ক্ষেত্রে নবম দশম শ্রেণীর গ্রামার বই যেগুলো সে সময়ে ফাঁকি দিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো আত্মস্থ করে ফেলুন। বাংলা ইংরেজি রচনা তৈরির প্রচেষ্টা হাতে নিন। ইংরেজি শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করুন এবং পরীক্ষায় তা প্রয়োগ করুন। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন লেখকের উপন্যাস, ঐতিহাসিক উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ ইত্যাদি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাংলা ইংরেজি সাহিত্যের লেখক এবং তাদের উল্লেখযোগ্য লেখা সম্পর্কে জানুন। নবম দশম শ্রেণীর পাটিগণিত-বীজগণিত, জ্যামিতি ভালোভাবে অধ্যয়ন করুন।

আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন। বিসিএস পরীক্ষায় এজন প্রার্থীর পড়াশুনা, মেধা, বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের সবরকম উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়। তাই প্রশ্ন অনেকসময় বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্যও হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার সর্বোচ্চ বিচার-বুদ্ধির পরিচয় দিন।

আপনি যে বিষয় নিয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করছেন সে বিষয়টি ভালোভাবে পড়ুন। কারণ এটি আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। আপনার বিষয়টি ভালোভাবে জানা থাকলে আপনি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করবেন। লিখিত পরীক্ষায় আপনার পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় নিতে হবে। সবচেয়ে বেশি নাম্বার ওঠে এরকম বিষয়গুলো ভালোভাবে আত্মস্থ করুন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। আপনার টেবিলের সামনে দেয়াল জুড়ে একটা বিশ্ব ম্যাপ এবং বাংলাদেশের ম্যাপ রাখুন। যখন আন্তর্জাতিক কোনো বিষয় পড়বেন বা বাংলাদেশের কোনো তথ্য জানবেন তখন ম্যাপে দেশটির অবস্থানের উপর চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। এতে আপনার বিশ্ব এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানা হবে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান মনে রাখার দক্ষতা থাকতে হবে। ধরুন বাংলাদেশে প্রতি বছর কত লক্ষ টন পলিমাটি বন্যার সময় আসে- এই তথ্যটি একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এধরনের তথ্য মনের মধ্যে গেঁথে রাখুন এবং প্রয়োজনে ছোট্ট নোটবুকে তা টুকে রাখুন।

আরেকটি কাজ করবেন। একটি বড় আর্ট পেপার নিবেন। সেই পেপারে বিশ্বের সবগুলো দেশের নাম, প্রেসিডেন্ট- প্রধানমন্ত্রীর নাম, মুদ্রা, স্বাধীনতা কাল, রাজধানী, প্রধান আমদানী-রপ্তানী পণ্য ইত্যাদি লিখে রাখুন। রুল টেনে তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করার ছলে একটি চার্ট তৈরি করে ফেলুন । লিখতে গেলেই আপনার যে পড়াটা হয়ে যাবে তা এক নিমিষে আপনার চোখে ফুটে উঠবে পরীক্ষার সময়। দেশগুলো সম্পর্কে আপনি ফুটনোটস ও রাখতে পারেন সেই চার্টে।

মনে রাখবেন আপনি যতবেশি তথ্য ধারণ করতে পারবেন ততবেশি আপনার সম্ভাবনা থাকবে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার। আপনি পড়াশুনা বা পার্টটাইম জব করেন। এর ফাঁকেও আপনার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো টাইম ফ্রেম রাখার প্রয়োজন নেই। তবে আজকাল কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীকে টাইম ফ্রেমে রেখে শিক্ষাদান করে। এটা অনেকের জন্য ভালোও হতে পারে। তবে নিজে নিজে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই সর্বোত্তম। কোচিং সেন্টার গুলে খাওয়ালেও নিজস্ব সৃজনশীলতা না থাকলে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটা শক্ত হবে। তাই নিজেকেই সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক পর্বে রচনা আসে। আপনি চেষ্টা করবেন ব্যতিক্রমী রচনাটি লিখতে। রচনাটি লিখতে আপনি যত তথ্যসমৃদ্ধ করতে পারবেন ততই রচনাটির উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরীক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে। বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নগুলো নিয়ে স্টাডি করুন এবং দেখুন প্রশ্নের ধাঁচ কিরূপ ছিল। রচনাগুলোও দেখুন।

পরিশেষে আরেকটি পরামর্শ। টোফেল, জিম্যাট, জিআরই, স্যাট ইত্যাদির যে কোনো একটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকুন। নেটে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নিতে থাকুন। আপনার অজানা বিষয়টা গুগলে সার্চ দিয়ে জেনে নিতে পারেন। দুনিয়ার সর্বশেষ তথ্যের সাথে আপডেটেড থাকুন। একজন তথ্যসমৃদ্ধ ব্যক্তি একজন দক্ষ অফিসার। বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই তথ্যটুকু অন্তরে লালন করুন।
বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি কিন্তু আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ধরে নিতে হবে। আপনার পড়াশুনার আসল লক্ষ্য কি তা নির্ধারণ করবেন আপনি নিজেই। যদি পাশ করে একজন ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে চান, আপনার শুরু করতে হবে প্রথম বর্ষ থেকেই। বিজ্ঞানমনষ্ক মন নিয়ে সব কিছু জানতে কৌতুহলী হোন। হাতের কাছে চলতি বিশ্বকোষ রাখতে পারেন। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে আপনি বিশ্বকোষে মাঝে মাঝে চোখ রাখবেন।

আপনি এই কাজগুলো শুরু করে দিন এখনই-
১. বাঁধাই করা লম্বা সাইজের কয়েক শ পাতার একটি খাতা কিনুন। এটি আপনার প্রতিদিনের সাধারণ জ্ঞানের ভাণ্ডার হয়ে উঠবে ধীরে ধীরে।
২. আরেকটি খাতা কিনবেন পেপার-পত্রিকার কাটিং সংরক্ষণের জন্য। নিউজটি পড়ে আপনার মনে হলো এটি ইম্পর্টেন্ট। কাঁচি দিয়ে কেটে আইকা বা গাম দিয়ে পৃষ্ঠাজুড়ে লাগিয়ে রাখবেন।
৩. ফুটপাথে আজকাল বড় সাইজের বাংলাদেশ ম্যাপ, বিশ্ব ম্যাপ পাওয়া যায়। দুটো ম্যাপ কিনে নিন। গ্রাফোসম্যানের ভূ-চিত্রাবলি বই আকারে পাওয়া যায়। বাজারে খুঁজলে আরও ভালো প্রতিষ্ঠানের ম্যাপ পাওয়া যেতে পারে।
৪. আপনার কাজ শুরু করে দিন। অনিয়মিত হলেও অসুবিধা নেই। দেয়াল জুড়ে ম্যাপটা যখন টেবিলের সামনে থাকবে, আপনার চোখে পড়বেই। কৌতুহলী হয়ে একটা দেশের নাম স্মরণ করে ম্যাপটাকে একটু চোখ বুলিয়ে নিলেন। এই দেশের আশেপাশের কয়েকটা দেশ দেখে নিলেন। দেশটি কোন মহাদেশে অবস্থিত তা দেখে নিলেন। এভাবেই আপনার কৌতুহল জাগবে।
৫. আপনি পত্রিকা পড়তে গিয়ে একটি নিউজ জানলেন যে, ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের চাকরিদাতা অর্থাৎ উদ্যোক্তা ১ লাখ ছিল। অর্থাৎ ৪ বছরে উদ্যোক্তা বাড়েনি একজনও। একটি আর্থ-সামাজিক সমস্যা সংকুল দেশে এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। (তথ্যসূত্র- প্রথম আলো, ২৯ জানুয়ারি ২০১২, ১৫ পৃষ্ঠা, কর্মসূত্র বাড়লেও বেকারত্ব কমেনি।) নিউজটি আপনি কেটে সংরক্ষণ করতে পারেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটুকু আপনার খাতায় তুলে রাখতে পারেন। ভবিষ্যতে কখনো চোখ বুলালে আপনার মস্তিষ্ক এই তথ্যটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করবে।
৬. বিশ্ব পরিস্থিতি এখন কোন দিকে ধাবিত- তা আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে। এর জন্য পত্রিকার আন্তর্জাতিক নিউজগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। আর ফলোআপ রাখতে হবে। এভাবে আপনার বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে।
৭. লাইব্রেরী ওয়ার্ক করবেন মাঝে মাঝে। বিভিন্ন রচনা/আর্টিকেল লেখার সময় কয়েকটি বই নিন। যে বই থেকে যে তথ্যটুকু প্রয়োজন মনে করবেন তা টুকে নিয়ে নিজেই একটি রচনা/আর্টিকেল প্রস্তুত করলেন।
মনে করুন সাম্প্রতিক আরব বসন্তে বিশ্ব পরিস্থিতি এখন কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে- এটি নিয়ে আপনি একটি আর্টিকেল সাজাবেন। লাইব্রেরীতে চলে যান। অনেক পত্রিকা ম্যাগাজিন পাবেন। গুগল সার্চ দিলেও অনেক আর্টিকেল পাবেন। সবগুলো পড়ে আপনার মতো করে একটি আর্টিকেল দাঁড় করান।
এই চর্চাটি আপনার ভবিষ্যত জীবনে খুব কাজে দেবে।
৮. তথ্যপ্রযুক্তির সর্বশেষ তথ্য, বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কার- এ তথ্যগুলো সংরক্ষণ করবেন কিংবা নোটে তুলে রাখবেন। আপনার সাথে সবসময় একটা ছোট্ট নোটবুক এবং কলম রাখবেন। কোথাও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চোখে পড়লে ঐ ছোট্ট নোটবুকে তুলে রাখবেন। বাসায় এসে বড় খাতাটিতে স্থায়ীভাবে তুলবেন। এতে দেখবেন এই তথ্য আপনার পরীক্ষায় কি কাজে দেয়!
৯. আজকাল অনলাইনে বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। গুগলে বিসিএস পরীক্ষা নামে সার্চ দিলেই কিছু প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে এ সাইটগুলো দেখুন। তারা কিভাবে মডেল টেস্ট নিচ্ছে অনলাইনে তা দেখুন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

আপনি নিজেই অনলাইনে এরকম একটি ফ্রি ওয়েবসাইট গড়ে তুলতে পারেন। এতে আপনার বিসিএস প্রস্তুতিটাও হয়ে যাবে আবার দশজনের উপকারও করলেন। আপনার বিজ্ঞানমনষ্ক এবং অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে আপনি এখন থেকেই একজন ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

আরেকটি দারুন পোস্টঃ

জুন ২০১১, বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানিনা। গবেষনা শুরূ হল - বিস্তারিত জানলাম। ক্যাডারদের থেকে পরামর্শ নিলাম, প্রশ্ন দেখলাম, বই কিনলাম। আরও পরামর্শের জন্য দরজা সবসময় খুলে বসে আছি। এইসব করতে করতে আগষ্ট ২০১১; এখন প্রস্তুতি চলছে ঢিমেতালে। মানুষের জীবনে কিছু জীনিস প্রত্যাশিত - সম্মান, ক্ষমতা, নাম। এই তিনটা থাকলে চতুর্থ বিষয় টাকা অদূরে থাকবেনা। একজন সাধারনের জন্য তাই বিসিএসের বিকল্প নেই এদেশে। যা বললাম এসব সবাই জানে, তবুও বেসরকারী ও নতুনদের এই পোষ্ট কিছুটা সাহায্য করলেও আমার লেখা সার্থক হবে। নিচের সিলেবাসটি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত।

মোট ২৮ টি ক্যাডারে পরীক্ষা হয়। বিসিএস পরীক্ষার প্রথম ধাপই হচ্ছে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। গত কয়েক বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর ৮০-৮৫ শতাংশ বাদ পড়ে। এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১০০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় বলে পরীক্ষার হলে চিন্তার সুযোগ থাকে না। তাই পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এখানে ভালো করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ২৮তম বিসিএস থেকে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কেটে নেওয়ার নিয়ম থাকায় না জেনে উত্তর করার কোনো সুযোগ নেই।
বি সি এস প্রিলিমিনারি: মোট নাম্বার ১০০; বাংলা ২০; ইংরেজী ২০; বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১০; আন্তর্জাতিক ১০; সাধারণ বিজ্ঞান ২০; গনিত ২০
বাংলা: সচরাচর দেখা যায়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলায় ২০টি প্রশ্ন থাকে। আগে বাংলা সাহিত্য থেকে ১০-১২টি এবং বাংলা ব্যাকরণ থেকে অবশিষ্ট প্রশ্নগুলো থাকত। তবে ২৮তম বিসিএস থেকে আগের ধারণার পরিবর্তন করে সাহিত্য অংশ থেকে ১৫টির বেশি প্রশ্ন করতে দেখা গেছে। তাই সাহিত্য অংশে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। মূলত চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য, বিভিন্ন মঙ্গলকাব্য, রোমান্টিক কাব্য, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিম, বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, মীর মশাররফ, দীনবন্ধু, জসীমউদ্দীন, বেগম রোকেয়া, কায়কোবাদ, ফররুখ আহমেদ, মুনীর চৌধুরী, জহির রায়হান, শহীদুল্লা কায়সার, ওয়ালীউল্লাহ, শরৎচন্দ্র, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, নির্মলেন্দু গুণসহ আধুনিক ও সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু, উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম, বিভিন্ন পুরস্কার লাভ ইত্যাদি বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার শব্দ, ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান, ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, পদপ্রকরণ, বাক্যসংকোচন, অশুদ্ধি সংশোধন, বানানরীতিএসব বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকলে বাংলা অংশে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে।
ইংরেজি: ইংরেজি অংশে আগে ২০টি প্রশ্ন থাকত। তবে বর্তমানে কোনো কোনো বছর ২৫-৩০টি প্রশ্ন ইংরেজি থেকে করা হচ্ছে। ইংরেজিতে ভালো করতে হলে Right from of verb, Tense, Voice, Narration, Preposition, Antonym, Synonym, Analogy, Transformation of sentences. Correction of Sentence, Phrases and Idioms, Spelling ইত্যাদি বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ছাড়া বিশ্বসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি, নাট্যকার ও সাহিত্যিকদের প্রধান সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে হবে।
গণিত: গণিত অংশ থেকে সাধারণত ১০-১২টি প্রশ্ন থাকে। গড়, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম, সরল-সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, পরিমাপ, বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলি, মাননির্ণয়, উৎপাদক, সূচক, সাধারণ জ্যামিতিএসব বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত চর্চা করলে সহজেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বিজ্ঞান: বিজ্ঞান অংশে আগে ১০টি প্রশ্ন থাকলেও বর্তমানে ১৫-২০টি প্রশ্ন আসে। চুম্বক ও চুম্বকের ধর্ম, নিউটনের সূত্রাবলি, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়াবলি, প্রচলিত কিছু রোগব্যাধি যেমন: ক্যানসার, এইডস, হেপাটাইটিস, বিভিন্ন প্রকার ভিটামিনের উৎস ও অভাবজনিত রোগ, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক ধারণাএসব বিষয়ে বিজ্ঞানের প্রশ্ন করা হয়। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর পর্যন্ত সাধারণ বিজ্ঞানের বই অধ্যয়ন করলে বিজ্ঞানে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে।
সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। একসময় নিয়মিত এ অংশে ৪০টি প্রশ্ন থাকত। তবে বর্তমানে এ অংশে প্রশ্নের সংখ্যা কিছুটা কম দেখা যায়। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নদী, খাল, বিল, বন, পাহাড়, প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, সুলতানি ও মোগল আমলের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর নির্বাচন, ৬ দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় খেতাব, সংবিধানএসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ ছাড়া সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান বই অধ্যয়ন করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভালো উত্তর করা যায়।
আন্তর্জাতিক অংশে বিশ্বের নানা প্রান্তের ভৌগোলিক অবস্থান, চুক্তি, সনদ, যুদ্ধবিগ্রহ, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, রাজধানী, ভাষা, পূর্ব নাম, জাতীয় প্রতীক ও সংসদের নাম, সরকার-ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সীমারেখা, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য নদনদী, পাহাড়-পর্বত, খনি, নানা ক্ষেত্রে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিত্ব এবং সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে প্রশ্ন থাকবে। উল্লিখিত বিষয়ে জ্ঞানলাভের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়া এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংবাদমাধ্যমের খবর গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনতে হবে।


BCS Written Test Syllabus
BCS Written Test Syllabus - Bengali First Paper: Bengali Literature; Essay Writing
BCS Written Test Syllabus - Bengali Second Paper: Bengali Grammar; Particular Writing; Amplification Writing; Essay Writing
BCS Written Test Syllabus - English First Paper: Letter Writing; Application Writing; Essay Writing
BCS Written Test Syllabus - English Second Paper: English Grammar; Particular Writing; Amplification Writing; Essay Writing
BCS Written Test Syllabus - Mathematics: Arithmetic; Algebra; Geometry
BCS Written Test Syllabus - General Science: Physics; Chemistry; Biology
BCS Written Test Syllabus - Technology: Computer Science; Information Technology; Technology
BCS Written Test Syllabus- General Knowledge: Bangladesh 1st Paper: Civil Administration; NGO
BCS Written Test Syllabus- General Knowledge Bangladesh 2nd Paper: Administration; Civil Society; NGO; Women
BCS Written Test Syllabus - General Knowledge: International
UN; International Organizations; International Politics


বইপত্র যা যা লাগবে:
বাংলা:
১। ৬ষ্ঠ-১০ম বাংলা বই
২। ৯ম-১০ম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরন
৩। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪। লাল নীল দীপাবলি ও কতো নদী সরোবর - হুমায়ূন আজাদ
অংক:
১। ৬ষ্ঠ-১০ম অংক বই
২। গণিত অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির বই
ইংরেজী:
১। ইংলিশ ফর কমপিটেটিভ এক্সাম
২। যে কোন একটি ভাল গ্রামার বই - Murphy এর Intermediate English ভাল লেগেছে
বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান:
১। আজকের বিশ্ব
২। নতুন বিশ্ব + mp3 বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক
৩। প্রফেসরস বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গাণিতিক যুক্তি
৪। ৬ষ্ঠ-১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক সব বই
৫। সংবিধান + এক থেকে পঞ্চদশ সংশোধনী, বাংলায় লিখে গুললে সার্চ দিলেই পাবেন

প্রফেসরস বা ওরাকল সিরিজের বইগুলো অনুসরন করা যেতে পারে। প্রফেসরস নন-ক্যাডার জব গাইড অনেক কাজের, বিশেষ করে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য। কোচিং করতে চাইলে কনফিডেন্স কে সবাই প্রাধান্য দেয়। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার আগে বাংলা ভিশনে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ড. সৌমিত্র শেখরের উপস্থাপনায় সপ্তাহে তিনদিন লাইভ অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠে মডেল টেষ্ট ও সাজেশান দেয়া হয় ভালভাবে, আগের বছরেরগুলোর মডেল টেষ্ট ও সাজেশান আর্কাইভে পাবেন অথবা এ্যাড্রেসবারে তারিখ পরিবর্তন করে করে আগেরগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। ফেসবুকে Click This Link ; http://www.facebook.com/bcsgk?sk=info ; http://www.facebook.com/exam.ufff?sk=info এই তিনটা পেজ লাইক দিয়ে রাখলে হোমপেজে পড়াশুনা চলে আসবে নিয়মিত। যেহেতু আমি বিসিএস পরীক্ষা কখনো দেইনি, জেনেছি মাত্র - তাই আমার লেখায় বা জানায় ভুল থাকতে পারে। এজন্য অভিজ্ঞদের মতামত আশা করছি এবং ভুল শুধরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

পরিশেষে বলব, জিআরই এর ৩৫০০-৪০০০ শব্দ গাধার মত মুখস্ত করার চেয়ে বিসিএসের পড়া পড়া অনেক আনন্দের। যদিও মুখস্ত বিদ্যা সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান - পাশ কাটানোর পথ সঙ্কির্ণ। বিসিএস ক্যাডার না হতে পাড়লেও ক্ষতি নেই, বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি একজন ছাত্রের শিক্ষাকে পরিপূর্ণ করবে বলেই আমার বিশ্বাস। একজন শ্রদ্ধেয় স্যার বলেছিল, আপনাকে যে কোন একটা বেছে নিতে হবে- আমি বিদেশ থেকে ফিরবোনা অথবা দেশে থাকবো। দেশে থাকলে বিসিএস ছাড়া গতি নেই। প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরির বর্তমান বাজার দর ১৫-২০ লাখ টাকা, ফ্রী পাবেন শুধু বিসিএসে। বেসরকারী ভাল বেতনের চাকরি আছে এদেশে যা হাই লবিং, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট এবং তেলের উপর নির্ভরশীল। যেখানে উপযুক্ত সম্মান, আরাম ও চাকরির নিশ্চয়তা কোনটাই পাবেন না। বাইরে থেকে সার্টিফিকেট এনে সরকারীতে ঢুকে লাভ হবেনা; বরং ক্যাডার হয়ে বাইরের সার্টিফিকেট বা বৃত্তি পাওয়া সহজ। অন্য দেশের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকার চেয়ে, এদেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকাটা অনেকাংশে ভাল। এখানে রাজনীতির প্রভাব প্রকট, আবার কেউ না চাইলে জোর করে রাজনীতিতে নিয়ে আসা যায় না। প্রতিকূলতা থাকবেই, সবখানেই সবদেশেই তা আছে এবং হয়ত ভিন্ন রূপে তা আবির্ভূত হয়। যে যার নিজের মত করে ভাবে, মতান্তরে ভিন্নতা না থাকলে আবার মানুষ কীসের


No comments:

Post a Comment